সারমর্ম বা সারাংশ কি ? সারমর্ম বা সারাংশ লেখার নিয়ম কানুন সহ বিস্তারিত তথ্য

গদ্য বা পদ্য রচনার কোনাে না কোনাে অন্তর্নিহিত মূল ভাব থাকে সহজ ও সাবলীল ভাষায় সংক্ষেপে তা লেখার নাম সারমর্ম বা সারাংশ ।

সারমর্ম / সারাংশ লেখার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত দিকগুলাে বিশেষ বিবেচনায় রাখা দরকার : 

১. পঠন ; সারমর্ম বা সারাংশ লিখতে গেলে অনুচ্ছেদের তথ্য লিখলে চলে না , মূল ভাব বুঝে নিয়ে তাকে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে হয় । তাই প্রথমেই মূল ভাব বােঝার জন্য রচনাটি ভালােভাবে মনােযােগ দিয়ে পড়া দরকার । 

২. মূল ভাব সন্ধান ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ চিহ্নিতকরণ : প্রদত্ত রচনাংশে সাধারণত একটি মূল ভাব বা বক্তব্য থাকে । কখনাে কখনাে একাধিক মূল ভাব বা বক্তব্যও থাকতে পারে । তা উপলদ্ধি করতে পারলে সারমর্ম ও সারাংশ লেখা সহজ হয় । মূল ভাব খুঁজে নেওয়ার একটা ভালাে উপায় হচ্ছে , যেসব বাক্য বা বাক্যাংশ মূল ভাবের দ্যোতক বলে মনে হয় সেগুলাে চিহ্নিত করা । 

৩. বাহুল্য বর্জন ; অপ্রয়ােজনীয় অংশ থেকে প্রয়ােজনীয় অংশ আলাদা করার মাধ্যমে সহজে মূল ভাব বের করা যায় । এজন্যে মূল রচনাংশে ব্যবহৃত উদ্ধৃতি , বর্ণনা , সংলাপ , উদাহরণ , অলংকার ( উপমা - রূপক ) ইত্যাদি বাদ দিতে হয় ।

৪. ভিন্নতর প্রসঙ্গের অবতারণা না করা ; সারমর্ম কিংবা সারাংশ অবশ্যই মূল রচনার ভাবধারণার মধ্যে সীমিত থাকে । তাই মূল ভাবের বাইরে অন্য কোনাে ব্যক্তিগত মতামত বা মন্তব্য সারমর্মে / সারাংশে প্রকাশ করা চলে না ।

সারমর্ম / সারাংশ রচনার কৌশল :

ক. অনুচ্ছেদ : সারমর্ম কিংবা সারাংশ একটি অনুচ্ছেদে লেখা উচিত ।

খ. প্রারম্ভিক বাক্য : প্রারকি বাক্য যথাসম্ভব সংহত ও আকর্ষণীয় হওয়া চাই । এতে পাঠক বা পরীক্ষক শুরুতেই চমৎকৃত হন ।

গ. প্রসঙ্গ বাক্য : প্রসঙ্গ বাক্য ( মূল ভাবটুকু প্রকাশের চুম্বক বাক্য ) সারমর্ম / সারাংশের প্রথমে থাকলে ভালাে । তা প্রয়ােজনে মধ্যে কিংবা শেষেও থাকতে পারে ।

ঘ. প্রত্যক্ষ উক্তি : মূলে প্রত্যক্ষ উক্তি থাকলে তা পরােক্ষ উক্তিতে সংক্ষেপে প্রকাশ করতে হয় । 

ঙ. পুরুষ ; সারমর্মে / সারাংশে উত্তম পুরুষে ( আমি , আমরা ) বা মধ্যম পুরুষে ( তুমি , তােমরা ) লেখা চলে না । বক্তব্য বিষয় যথাসত্ব নৈর্ব্যক্তিকভাবে লিখতে হয় ।

চ. উদ্ধৃতি : মূলে কোনাে উদ্ধৃতাংশ থাকলে সারমর্মে উদ্ধৃতিচিহ্ন বর্জিত হবে এবং সংক্ষিপ্ত ও সংহতরূপে তা প্রকাশ করতে হবে ।

ছ. ভাষা : সারমর্ম ও সারাংশের ভাষা সরল ও সাবলীল হওয়া দরকার । তাই জটিল বাক্যের পরিবর্তে সরল বাক্য এবং দুরুহ শব্দের পরিবর্তে সহজ - সরল শব্দ ব্যবহার করা উচিত ।

জ. হুবহু উদ্ধৃতি বা অনুকৃতি : মূলের কোনাে অংশের হুবহু উদ্ধৃতি বা অনুকৃতি সারমর্ম / সারাংশে গ্ৰহণীয় নয় । মূলের কোনাে অংশকে সামান্য অদল - বদল করে লিখে দেওয়াও অনুচিত ।

ঝ. পরিসর ; সারমর্ম / সারাংশ কত বড় বা ছােট হবে তা নির্ভর করে প্রদত্ত অংশে বর্ণিত বিষয়ের গুরুত্ব ও গভীরতার ওপর । প্রদত্ত রচনার ভাববস্তু সুসংহত ও নিরেটভাবে প্রকাশিত হলে তা সংক্ষেপ করা কঠিন । হয়ে দাঁড়ায় । ফলে সারমর্ম / সারাংশ মূলের সমান , অর্ধেক , এক - তৃতীয়াংশ বা তার কমও হতে পারে ।

ঞ. খসড়া : সারমর্ম কিংবা সারাংশ লেখার সময়ে প্রথমে প্রদত্ত রচনার মূল ভাবটুকুর আলােকে একটি প্রাথমিক খসড়া দাঁড় করানাে ভালাে । তারপর প্রয়ােজনমতাে পরিমার্জনা করে পুনর্লিখন করে নিতে হয় ।

Post a Comment

1 Comments

লক্ষ্য করুনঃ একটি পোস্ট করতে লেখকের অনেক শ্রম ও সময় দিতে হয় । আর সেই শ্রমের সার্থকতা পাওয়া যায় মন্তব্য থেকে । মন্তব্য পেলে লেখক আরো নতুন নতুন পোস্ট করার অনুপ্রেরণা পায় । তাই পোস্ট পড়ে উপকৃত হলে অবশ্যই কমেন্ট করবেন ।